ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

ভাগ্য বদলেছেন কলারোয়ায় শিখা রাণী চক্রবর্তী

  • আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৪ ১২:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৪ ১২:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
ভাগ্য বদলেছেন কলারোয়ায় শিখা রাণী চক্রবর্তী
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
কেঁচোসার ৎপাদন করে ভাগ্য বদলেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শিখা রাণী চক্রবর্তী। তিনি একজন সফল ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো কম্পোস্ট সার ৎপাদনকারী হিসেবে এলাকার মডেল নারী। তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১শমণের বেশি ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার ৎপাদন করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা শিখা রাণী আজ এলাকায় রোলমডেল। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক বছর জমিতে ওই জৈব সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা ফসলের ৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাছে জৈব সারের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। শিখা রাণী চক্রবর্তীর এক সাক্ষ্যাৎকারে তিনি বলেন-২০০৯ সালে ৩টি নান্দা দিয়ে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার ৎপাদন।
এখন তার বাড়ির আঙিনায় বালু সিমেন্ট টিন দিয়ে তৈরি করা খামারে ৩টি বড় হাউস ছোট ২৫টি ভার্মি কম্পোস্ট রাখার চাড়ি। ৬টি বড় হাউসে চলে ট্রাইকো কম্পোজ সার ৎপাদন কার্যক্রম। নারী উদ্যোক্তা শিখা রাণী চক্রবর্তীর খামারে জন নারী শ্রমিকেরও কর্মসংস্থান হয়েছে।
এখানে কাজ করে তারাও পরিবারের অর্থ যোগান দিচ্ছে। উদ্যোগক্তা শিখা রাণী চক্রবর্তী কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া ঠাকুর পাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মহন কুমার চক্রবর্তীর স্ত্রী। শিখা রাণী চক্রবর্তী বলেন, আমার নিজ হাতে তৈরি করা সার প্রথমে কেউ ব্যবহার করতে চাইতো না। কৃষকদের বিনামূল্যে এই সার দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এখন কৃষকেরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার অত্যন্ত কার্যকারী হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি আরও বলেন, এখন কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা এসে নগদ টাকায় আমার কাছ থেকে জৈব সার কিনছে। এটা এখন এই এলাকার কৃষকের কৃষি বিভাগের সফলতা মনে কনছি। এলাকার কৃষকের কাছে তার ৎপাদিত কম্পোস্ট সারের চাহিদা থাকলেও অর্থ অভাবে বেশি ৎপাদন করতে পারছেন না তিনি।
যদি কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করে তাহলে সে তার খামার আরও বড় করতে পারবেন। সেখানে আরো নারী কর্মীর কর্মসংস্থান হবে। কৃষকেরা মাঠে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী জৈব সার ব্যবহার করতে পারবেন। তার এমন উদ্যোগ কৃষিক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবে এমনটাই দাবি করেছেন এলাকার কৃষকরা। ট্রাইকো কম্পোস্ট সার প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। কেঁচো কম্পোস্ট ১২ টাকা কেজি এবং তার খামারের ৎপাদিত থাইল্যান্ডের কেঁচো যদি কোন এনজিও সংস্থা ক্রয় করেন সেক্ষেত্রে তিনি ১৫শটাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন।
আর যদি কোন কৃষক বা কোন নারীর উদ্যোক্তা খামার তৈরীর ক্ষেত্রে ক্রয় করেন সেক্ষেত্রে তিনি এক হাজার টাকা কেজি ধরে বিক্রি করবেন। বর্তমানে প্রতি মাসে তার খামার থেকে প্রায় সকল খরচ বাদে ৩০থেকে ৩৫হাজার টাকা লাভ থাকছে। তিনি জানান, কেঁচো কম্পোস্ট ভার্মি কম্পোস্ট সারের রোগ বালাই বলতে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। সার তৈরীর এই কেঁচোগুলো অতি গরম বা অতি ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না। বর্ষা শীতকাল এই দুই মাসে কেঁচো ডিম দেয় এবং ফাল্গুন থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্তসার ৎপাদনের মাত্রা সবথেকে বেশি হয়।
তবে খেয়াল রাখতে হবে পঁচা গন্ধযুক্ত গোবর, লতাপাতা সার তৈরি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। উপজেলা কৃষি অফিসার শুভ্রাংশু শেখর দাস বলেন, কৃষিতে নিরাপদ ফসল ৎপাদনে অনেক বড় ভূমিকা রেখে কাজ করছেন নারী উদ্যোক্তা শিখা রাণী চক্রবর্তী। কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিনি ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক অর্জন রয়েছে তার। এখন তাকে সফল হতে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসফিকা হোসেন বলেন, সমাজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নারীরা এখন অনেক এগিয়ে।
কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজে তারা দক্ষতা অর্জন করেছে। কলারোয়ার শিখা রাণী, আকলিমাসহ অনেক নারী জয়িতা পুরস্কার পেয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। নারীদের মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য